কিছু কারণ , যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না ! – Creative IT Blog
Home / আউটসোর্সিং / কিছু কারণ , যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !

কিছু কারণ , যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু ফ্রীলান্সিং নিয়ে আজকের পোস্ট । আশা করি সবাই উপকৃত হবেন  

চলুন শুরু করি

বাংলাদেশের যুব সমাজকে বর্তমানে ফ্রীলান্স কি, কেন বা এই ধারার প্রশ্নগুলো তেমন কাউকে বুঝিয়ে বলতে হয় না বিশেষ করে যারা অনলাইন মুখী। কারণ গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ফ্রীলান্সারদের যে আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছে তা আমাদের সবারই জানাশুনার মধ্যেই। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা। ভিন্নতা বলতে সেই বিষয়গুলো, যেগুলো বা যারা চোখের সামনে ভালো মন্দ গুলো দেখাও বিচার করতে পারে না আসলেই তাঁর কি করা উচিৎ।

প্রিয় পাঠক! আমার পোস্টির শিরোনাম দেখে অনেকেই ভাবছেন আমি হয়তো অন্যদেরকে অবমূল্যায়ন করছি। আমার পোস্ট টাইটেল সম্পর্কে যদি আপনার চিন্তা এমন হয়ে থাকে তাহলে বাকী লিখা গুলো আপনার জন্য নয়। আমি মূলত পোস্ট লিখছি তাদের জন্য যারা তাদের চোখের সামনে ভালো কিছু দেখেও সেগুলোকে নিজের করে নিতে পারে না। বা বুঝে উঠতে পারে না আসলেই কিভাবে তাঁরা নিজেকে একজন সফল ফ্রীলান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

কিছু কিছু বিষয় যা আপনি ফলো করতে পারলেই আপনার ফ্রীলাসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে অনেক সহায়তা করবে। দেখুন কারণ হিসেবে আমি এখানে যে বিষয়গুলোকে নেগিটিভলি উল্লেখ করবো সেগুলোকে আপনি বেশি কিছু না শুধু নিজের সাথে মিলিয়ে দেখেন এবং পারলে সেই বিষয়গুলোকে পজিটিভ করে নিন নিজের জন্য নিজের মত করে। তাহলে হয়তো আর পিছে ফিরে দেখতে হবে না। তো চলুন কারণ গুলো দেখে নেই যে কারণগুলোর কারণে আপনি কখনই একজন সফল ফ্রীলান্সার হতে পারবেন না-

১. অধ্যাবসায়হীনতাঃ

কয়েকটি কারণ আছে যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !!

ফ্রীলান্সার হবার মূলমন্ত্র! এই গুনটি আপনার মাঝে নাই। আপনি অধ্যবসায়ী হতে পারেন নাই বা চেষ্টাও করেন নাই কখনও। এক বিষয় চিন্তা করেন, আপনি হয়তো অন্য সব সফল ফ্রীলান্সারদেরকে ফ্রীলান্সিং এর মাধ্যমে আয় করতে দেখে ভাবেন “আমিও সফল হবো” অথবা “আমি ঐ ভাইয়ের মতো এইটা হবো,ঐটা হবো”। দেখুন চাইলেই অনেক কিছু পাওয়া যায়, একথাটি অনেক ক্ষেত্রে সত্যি। তবে শুধু কি চাইলেই হবে কারণ এই কথাটি বলে আপনি যতই চেঁচামেচি করেন না কেন কোন লাভ হবে না। আপনার সফলতা কখনই আসবে না। কারণ আপনি যে ভাইয়ের মতো হইতে চাচ্ছেন সেই ভাই অনেক সাধনা করেই ঐটা হইছে বাট আপনি কি করছেন? সফলতা চাইতে হলে বা সফল হতে হলে আপনাকে বেশি কিছু করার দরকার হবেনা! শুধু দরকার আপনার পছন্দের বিষয়ে তীব্র “অধ্যবসায়”!একবার অধ্যবসায় শুরু করুণ। দেখবেন আপনার সফলতা আপনাকে হাত ছানি দিয়ে ডাকছে! 

২. সময়জ্ঞানহীনতাঃ

কয়েকটি কারণ আছে যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !!

যারা অধ্যবসায়ী না তাঁদের কখনও সময়ের মূল্যায়ন করতে পারেন না। কারণ আপনি অধ্যবসায় শুরু করলেই আপনাকে সময় সম্পর্কে অনেক চিন্তা ভাবনা করে চলতে হবে। এমন অনেকেই দেখা যায়, যারা “টাকা আকাশে উড়ে” শুধু এই চিন্তা নিয়েই ফ্রীলান্স করতে আসেন। আসলে-ইতো টাকা উড়ে! কি বিশ্বাস হয় না? একবার ফ্রীলান্স সাইটগুলোতে দেখেন, প্রতিদিন কত কোটি ডলারের কাজ পোস্ট হয়। যার মধ্যে খুব বেশি হলে ৫০% কাজ সম্পূর্ণ হয় আর বাকীগুলান কর্মীর অভাবে বাতিল হয়ে যায়। আপনি কখনও একথায় বিশ্বাস-ই করবেন না কারণ আপনার সময়-ই নাই এসব সাইটে ভিজিট করে দেখবার। কারণ আপনি সময়জ্ঞানহীনতা নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকেন হয়তো!!! 

৩. অপ্রত্যাশিতভাবে টাকার পিছনে ছুটছেনঃ

আবার আসি “টাকা আকাশে উড়ে” নিয়ে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে এমন কিছু ফ্রীলান্সার আছেন। যারা আসলেই “ফ্রীলান্স” বা “ফ্রীলাসিং” কথাটির অর্থই জানেন না। তাঁদের জন্য একটু সংক্ষেপে বলি-

কয়েকটি কারণ আছে যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !!

আউটসোর্সিং বা ফ্রীলান্সিং কি?

আউটসোর্সিং বা ফ্রীলান্সিং বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির সবচেয়ে গুরুপ্তপূর্ণ ভিত্তি। বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে যারা পড়াশুনার পাশাপাশি নিজের পকেট খরচটা চালাতে চান। একটা সময় দেখা যায় এই পেশায় তারা এমনভাবে জড়িয়ে পড়েন, যা কিনা তাদের ভবিষ্যতের আয় উন্নতির স্থায়ী পথ হয়ে যায়।

আউটসোর্সিং ও ফ্রীলান্সিং শব্দ দুটি আমরা একই জিনিস বুঝলেও। অর্থগত দিক থেকে এদের পার্থক্য আছে বটে, সংক্ষিপ্তভাবে বলছি এদের অর্থগত পার্থক্য। আউটসোর্সিং (Outsourcing) মানে বাহিরের মাধ্যম থেকে কোন কাজ বা তথ্য নিজের কাছে নিয়ে আসা বা নিজের কাজ বা তথ্য অন্যের কাছে পাঠিয়ে দেয়া। এক্ষেত্রে শুধু ফ্রীলান্সিংকে একক ভাবে আউটসোর্সিং বলা চলে না। যেকোনো বিষয় এর সাথে যুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে স্থানীয়/নিজ দেশের কাজকে কিন্তু আউটসোসিং বলা চলে না।

আর ফ্রীলান্সিং (Freelancing) বলতে, মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করার মাধ্যমকে বুঝায়। এক্ষেত্রে বলা চলে ফ্রীলান্সাররা কিন্তু কারো কাছে কুক্ষিগত নয়, এবং কখনও হতেও পারে না। ফ্রীলান্সাররা দেশ বিদেশের সকলের সাথে কাজ করে সম্পূর্ণ নিজের স্বাধীনতায়। কেউ তাকে বাধা বা কাজে বিঘ্নিত করতে পারে না। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে কেউ যদি নিজের চেষ্টায় না করে অন্য কোন ফ্রীলান্স দল/গ্রুপ আর আওতায় থেকে কাজ করে তবে তাকে মুক্ত বা স্বাধীন ফ্রীলান্সার বলা যাবে না। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল, ফ্রীলান্স কি সম্পূর্ণ ফ্রি নিবন্ধন এর আওতায় পড়ে এবং বায়ারের কাজ গুলো ফ্রীলান্স কোম্পানি থেকে নিতে নগণ্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হয়ে।

দেখুন আপনি কাজ জানেন আপনার কাছে কাজ আসবে এটা কিন্তু ঠিক। তবে, আপনি যদি চুপ করে বসে থাকেন তাহলে কি কেউ আপনাকে জানবে? আপনাকে কাজ দিবে? টাকা কামাতে চাইলে আপনাকে আপনার কোয়ালিটি জানাতে হবে। প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি কাজের জন্য বেস্ট! আর এভাবে না চলতে পারলে শুধু টাকার পিছনে ছুটাই হবে, ফ্রীলান্স করে টাকা কামানোর শখ কোনদিন পূরণ হবে না। 

৪. কাজ শিখার অমনোযোগিতাঃ

কয়েকটি কারণ আছে যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !!

এই বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি অমনোযোগী নতুনরা। অনেকেই প্রশ্ন করে বসেন, “ভাই সব চেয়ে সহজ কাজ কোনটি? যেটাতে তেমন কিছু শিখতে হবে না”। আপনাকে জানতে হবে, কিভাবে লিখলে আপনাকে বায়ার কাজ দিবে বা লিখায় কতটা সৌন্দর্য দিতে পারলে বায়ার আপনাকে বেঁছে নিবে সবার মাঝে থেকে! অনেকে বলেন, ভাই আমি গ্রাফিক্স বা ওয়েব ডিজাইন শিখতে চাই কিন্তু কোথায় শিখবো, কার কাছে শিখবো জানি না। তাঁদের জন্য বলি, সৃষ্টিকর্তা তো আপনাকে অন্ধ করে পাঠান নাই, তাই না? আপনিতো অন্তত নেট ব্রাউজ/চালাতে পারেন। তাহলে গুগল করুন না আপনি যে বিষয়টি খুঁজছেন। যদি ওয়েব ডিজাইন টিউটোরিয়াল খুঁজেন তাহলে কীওয়ার্ড লিখুন “Free Web Design Tutorials” অথবা “Free Web Design Video Tutorials”। আমি ১০০% সিউর আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি পেয়ে যাবেন। একটি কথা মনে রাখবেন, আপনি এখন ২০১২ সালে এসে যে জিনিস গুলো বাংলায় খুঁজে পাচ্ছেন সেগুলো কিন্তু কিছু বছর আগেও বাংলা ছিল না। আজ যারা সফল তাঁরা কিন্তু একটা সময় আপনার মতই ছিলেন। তাঁরা ইন্টারনেটের এই বিশাল ময়দান থেকে অনেক যুদ্ধ করে আজকের সফল ব্যক্তিত্ব হয়েছেন। আপনি তাঁদের মত হওন বা না হওন, নিজে খুঁজে নেয়ার চেষ্ঠাতো করবেন? না পেলে না হয় কার হলে নিবেন। নিজের চিন্তা এবং মেধা শক্তিকে কাজে লাগান। নাহলে, একটা সময় কোন কিছুই খুঁজে পাবেন না নিজের মাঝে থেকে! 

৫. ভ্রান্ত ধারনা থেকে ফ্রীলান্সিং শুরু করাঃ

কয়েকটি কারণ আছে যা কখনই আপনাকে সফল ফ্রীলান্সার হতে দেবে না !!

ফ্রীলান্সিং নিয়ে ভ্রান্ত ধারনা কি, তা হয়তো এই সময়ে আর বলে দিতে হবে না। উপরে লিখা “আউটসোর্সিং বা ফ্রীলান্সিং কি?” এই বিষয়টি ভাল করে বুঝতে পারলে আপনাকে কেউ ভ্রান্ত করতে পারবে না। তারপরেও বলি, ধরুন, আপনি যাদেরকে ফ্রীলাসিং এ সাকসেস হতে দেখে নিজেও ফ্রীলান্সিং করতে আসলেন। কিন্তু, আপনি ভাল করে জেনে নিলেন না আসলেই আপনার ঐ ভাই বা বোনটি কি কাজ করে ফ্রীলান্সিং এ সাকসেস হয়েছেন। আর আপনার এই নাম জানার কারণেই বর্তমান সমাজে কিছু কুলাঙ্গাররা সুযোগ নিবে আপনার মূল্যবান সময়, শ্রম, অর্থ হাতিয়ে নেবার জন্য। বাস্তবিক ভাবে অনেককেই দেখেছি এখন দেখছি, কেউ কেউ নিজের সম্পত্তি বিক্রয় করেও টাকা ইনভেস্ট করে সেসব মূল্যহীন কাজে। একবার ভাবুনতো বা খোঁজ নিয়ে দেখুনতো, আপনি আপনার পাশের যে ভাই বা বোনটির সফলতা দেখে ফ্রীলান্সিং করতে নামলেন তিনি কাজ পেতে নিজের সম্পত্তি বিক্রয় করেছেন। এমনটা হতে পারে, তিনি কাজ শিখার জন্য টাকা ইনভেস্ট করেছেন কিন্তু কাজ পেতে নয়। 

পোস্টির মূল আলোচনা এখানেই শেষ! আবার আপনার ভাবে দেখবার পালা। উপরের পাঁচটি কারণের যে কোন একটি আপনার মাঝে থাকলে আপনি কখনই সফল ফ্রীলান্সার হতে পারবেন না। আপনি কি উপরের কোনটির সাথে আপনার মিল খুঁজে পান? যদি মিল খুঁজে পেয়ে থাকেন আর স্বপ্ন দেখেন সফল হবার, তাহলে আপনি ভুল পথে হাঁটছেন! 

আজ এই পর্যন্ত-ই! পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন।

সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

ফ্রীলান্স নিয়ে আপনার যেকোন প্রশ্ন করতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

About চৌধুরী সাহেব

Check Also

maxresdefault

অবশ্যই দেখে নিন স্মার্টফোন কেনার আগে

জীবনের প্রয়োজনীয় এক অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। কত কাজেই না লাগে এটি। যোগাযোগ, ছবি তোলা, …